Police station, public duty, service, civic life, and institutional memory.
প্রায়শ্চিত্ত
প্রায়শ্চিত্ত কিছুদিন যাবত গ্রীষ্মের একটানা অসহ্য দাবদাহে ক্লান্ত হইয়া অবশেষে শেষ রাত্তিরে গ্রামের মানুষ অকাতরে স্বস্তির ঘুম ঘুমাইয়াছেন। কারন বহুদিন পর , গেল রাত্তিরে বেশ কিছুটা ভারী বৃষ্টি হইয়াছে। সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ভবানী ভট্টাচার্য ওরফে ভবানী ঠাকুর প্রত্যুষ কালে শয্যা পরিত্যাগ করিয়া নিত্য দিনের ন্যায় ঈশ্বর চিন্তা করিতে করিতে মন্দিরের চাতালে উঠিয়াই হতবাক হইয়া গেলেন। গ্রিলের বাহির হইতে কে বা কাহারা প্রণামী বাক্সটি ভাঙ্গিয়া যাবতীয় টাকা পয়সা লইয়া পলায়ন করিয়াছে। ভাঙা প্রণামী বাক্স খানি গ্রিলের ভিতরেই মায়ের মূর্তির সামনে গড়াগড়ি খাইতেছে। মা সিদ্ধেশ্বরী অন্যদিনের মতোই উদাসীন দৃষ্টিতে ভবানী ঠাকুরের দিকে চাহিয়া মৃদু মৃদু হাসিতেছেন। ভাঙা প্রণামী বাক্স টির প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করিয়া, মা যেন ইঙ্গিতে ভবানীকে বলিলেন 'সবার প্রথম শম্ভু কে খবর দে'। শম্ভু খাঁড়া এ তল্লাটের নামজাদা লোক। আশেপাশের বিশ খানা গ্রামের মানুষ তাহাকে এক ডাকেই চেনেন। কথিত আছে শম্ভু খাঁড়ার নামে এখানে বাঘে ও ছাগলে এক ঘাটে একসাথে জল পান করা কালীন কেহ কাহারো দিকে ভুল করিয়াও দৃষ্টি বিনিময় করে না। ছাগল বুক ফুলাইয়া ঘরে ফেরে ও বাঘ মাথা হেঁট করিয়া জঙ্গলে ফিরিয়া যায়। শম্ভু খাঁড়ার বাড়ি যাইবার উদ্দেশ্যে কেহ রিকশায় উঠিলে , রিক্সা চালক কোন প্রকারেই ভাড়া গ্রহণতো করেনই না উপরন্তু যাত্রীর সময় হইলে, রিক্সা থামাইয়া নিজ গাঁটের পয়সা খরচ করিয়া ক্যাবলার দোকানের মাটির ভাঁড়ে চা খাওয়াইয়া শম্ভু বাবুর তরফে রাস্তা হইতেই আথিতেয়তা শুরু করেন। । শম্ভু খাঁড়ার অঙ্গুলিহেলনে চন্দ্র-সূর্যেরও নিয়ন্ত্রণ চলে। এহেন শম্ভু খাঁড়ার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে চুরি করিবার সাধ্য কাহার হইল এই প্রশ্নই পুরোহিত ভবানী ঠাকুরকে পাগলপ্রায় করিয়া তুলিল। ভাবিতে ভাবিতে ভবানী ঠাকুরের একবার এ কথাও মনে হইল যে নিশ্চয়ই এই চোর স্বয়ং সিদ্ধেশ্বরী মাতারই আশীর্বাদ পুষ্ট - অন্যথায় যাহার তাহার পক্ষে এই জাতীয় চুরি করিবার সাহস সঞ্চয় করা সম্ভব নহে । সামনে পাইলে চোর মহারাজ কে সবার অলক্ষ্যে একবার সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিয়া তাহার পর তাহাকে শম্ভু খাঁড়ার সন্মুখে নৈবেদ্য স্বরূপ উপস্থিত করিতাম। এই কথা ভাবিতে ভাবিতে তিনি দ্রুতপদে হাঁপাইতে হাঁপাইতে শম্ভু বাবুর বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করলেন। ক্রিং ক্রিং ক্রিং... উফ্ একটুও শান্তি নেই ... সাত সকালে ফোনের জ্বালায় একটুও ঘুমোবার উপায় আছে ? - ভুড়ির উপর লুঙ্গির গিঁটটি একটু শক্ত করিয়া বাঁধিয়া লইয়া থানার বড়বাবু শক্তিপ্রবল সামন্ত টেলিফোনের রিসিভারটি লোমশ কর্ণে স্পর্শ করিয়াই আঁৎকাইয়া উঠিলেন । অপর প্রান্ত হইতে গুরু গম্ভীর কণ্ঠে ভাসিয়া আসিল , " ঘুমোচ্ছেন বুঝি? তা ভালো। এদিকে চোরে যে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে সব টাকা পয়সা নিয়ে পালালো..." শক্তিপ্রবল বাবু তাহার পঞ্চাশ ইঞ্চি বক্ষের অন্তরকক্ষে কেবলমাত্র শূন্যতা ছাড়া আর কিছু অনুভব করিতে পারিলেন না। নিমেষের মধ্যে তাহার নিদ্রা কোথায় উধাও হইল । যাবতীয় শক্তির প্রাবল্য ত্যাগ করিয়া হস্ত যুগল ও পদতলদ্বয় এই উষ্ণ আবহাওয়াতেও শীতল হইয়া আসিল। একেই মন্দিরে চুরি - তাও আবার শম্ভু বাবুর মন্দির - আর সে খবর কি না জানাইতেছেন স্বয়ং শম্ভু বাবু নিজেই। নাসিকার উপর মৃদু চিমটি কাটিয়া শক্তিপ্রবল বাবু অনুভব করিলেন তিনি জাগিয়াই আছেন। এ কোন স্বপ্ন নহে। বুকের ভিতর ধর্ পর্ করিতে শুরু করিল। হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হইবার জোগাড় হইল। তৎক্ষণাৎ একমাত্র পত্নী ও চার সন্তানাদির অসহায় মুখচ্ছবি স্মরণ করিয়া ও তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করিবার প্রাণান্ত প্রয়াস করিয়া একটু ধাতস্থ হইলেন। এরপর তার পরাক্রমশালী গোঁফে একটু তা দিয়া নিজেই হাসিয়া ফেলিলেন এবং ভাবিলেন স্বয়ং চোরও বোধহয় শম্ভু বাবু কে তাহার মত এতটা ভয় পায় না। নিজ বক্ষে নিজ হস্ত সঞ্চালন করিতে করিতে এক গ্লাস শীতল জল পান করিয়া বড়বাবু শক্তিপ্রবল সামন্ত পুনরায় শক্তির কিঞ্চিৎ প্রাবল্য অনুভব করিলেন ও বাসা হইতে থানা অভিমুখে দ্রুত পদব্রজে যাত্রা করিলেন। থানার সকল দারোগাবাবু ও অন্যান্য অধস্তন কর্মচারীদের একযোগে তাহার অফিসে ডাকিয়া যারপরনাই তিরস্কার করিতে শুরু করিলেন । বলা ভালো কেবলমাত্র প্রহার করিতে বাকি রাখিলেন। তাহার শব্দভাণ্ডারে সঞ্চিত যাবতীয় অশ্লীল ও অসাংবিধানিক শব্দসমূহ উচ্চরবে প্রয়োগের মাধ্যমে সকলকে তটস্থ করিয়া তুলিয়া অপরাধ নিরাময় ও নিবারণে তাহাদের চূড়ান্ত অকর্মণ্যতা ও লজ্জাজনক অপদার্থতার কথা ব্যক্ত করিলেন। একটি চুরির মামলা রুজু হইল ও তাহার তদন্তও শুরু হইলো। দুইদিন কাটিয়া গেল। আবারও বৃষ্টি হইল। সকলের মুখে হাসি ফুটিল কেবল শক্তিপ্রবল বাবু ছাড়া। সেদিন সন্ধ্যায় বাসা বাড়ির উঁচু বারান্দায় শক্তিপ্রবল বাবু লুঙ্গি পরিয়া খালি গায়ে কাঠের একটি শক্তপোক্ত জলচৌকিতে বসিয়া গম্ভীর মুখে উঠোনের এককোণে দেশি মুরগি কাটা দেখিতেছিলেন। জগাই পালোয়ান অক্লেশে মুরগিটির প্রাণ হরণ করিয়া প্রবল পরাক্রমে তাহার ছাল ছাড়াইতেছিল । ইত্যবসরে থানার দারোগা বাবু তথা সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের চুরি কেসের তদন্তকারী অফিসার গোবর্ধন মাল হন্তদন্ত হইয়া আসিয়া শক্তিপ্রবল বাবুর পাশে গদগদ চিত্তে দাঁড়াইয়া কহিলেন, 'স্যার কিনারা বোধহয় হয়ে গেল।' "কিসের আবার কিনারা করলেন ? " - শক্তিপ্রবল বাবু ভুরু কুঁচকাইয়া বিরক্তির সুরে জিজ্ঞাসা করিলেন। "ওই সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের চুরি কেসটার কথা বলছিলাম স্যার" "এ্যাঁ , বলেন কি মশাই ? " নিজের অজ্ঞাতসারেই শক্তিপ্রবল বাবু বলিয়া উঠিলেন, "রক্ষে কর মাগো, রক্ষে কর" নিজের অজান্তেই তাঁহার জোড়হস্ত নিজ কপাল স্পর্শ করিল। 'স্যার মন্দিরের পুরোহিত ওই ভবানী ঠাকুরের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছি। ওকে সদর দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে এসছি। আপনি অনুমতি দিলে ভিতরে ডাকবো।' 'আরে ডাকুন ডাকুন ।এক্ষুনি ডাকুন।' ভয় ভক্তি শ্রদ্ধা মিশ্রিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া ষাটোর্ধ্ব পুরোহিত ভবানী ঠাকুর হাতজোড় করিয়া ভৃত্তের ভঙ্গিমায় মনিবসম শক্তিপ্রবল বাবুর সন্মুখে মাথা ঝুঁকাইয়া দন্ডায়মান রহিলেন। পরনে খেটো ধুতি ও-গায়ে নামাবলী জড়ানো । ভবানী ঠাকুর বলিতে শুরু করলেন , 'ছ্যার, অভয় দিলে বলি - যেদিন মন্দিরে চুরি হল তার ঠিক আগের দিন ছোন্দ্যে বেলায় ছাড়ি পড়া একটা বউ ছঙ্গে একটা বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে মন্দিরে এছেছিল। ছে নাকি মন্দিরের চারিদিক ঘুরে ঘুরে ছব নজর করছিল। আমাদের ছ্যামা নাপিত ধুনুচিতে ধূপ দিতে দিতে তা খেয়াল করেছে। লোকমুখে জানলুম ওই বউটি নাকি চুল্লুখোর নটোবরের ছালি। রাধাকান্তপুরে বাড়ি। নটোবর নিচ্চয় ওর বাড়ি চিনবে। ছেদিন রাতে নিতাই ছন্নকারের, ছ'মাসের পোয়াতি বউমা ওদের দোতলার বারান্দা থেকে রাতের বেলা নাকি মন্দিরের গিরিলের পাছে ছাড়ি পরা একটা বউকে দেখেছে। মা ছিদ্দেছরি ভেবে কাউকে কিছু জানায়নি - তারপর পোয়াতি বউ তো , কিছে কি হয় কে বলতে পারে - ছেও এক ছমছ্যা। শক্তিপ্রবল বাবু মনে মনে কহিলেন 'সত্যিই মা সিদ্ধেশ্বরী জাগ্রত । না হলে সবেমাত্র কাল গভীর রাতে তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে মায়ের মন্দিরে গিয়ে, যাতে চোর ধরতে পারেন ও শম্ভু খাঁড়া ঠান্ডা হয় সেই মানত করে এসেছেন। আর আজ কি না এত তাড়াতাড়ি মা চোর ধরিয়ে দিলেন। তিনি হঠাৎ চিৎকার করিয়া উঠিলেন, "ওরে পালোয়ান , আজ আর মুরগি খাব না । রাতে নিরামিষই খাব বুঝলি ।তুই বরঞ্চ ওই মুরগি বাড়ি নিয়ে গিয়ে রান্না করে বউ বাচ্চাদের নিয়ে খাওয়া দাওয়া কর। আর পারলে, রান্না মাংস এক বাটি নিয়ে এসে আমার রান্না ঘরে চাপা দিয়ে রাখিস, টকে না গেলে কাল দেখা যাবে"। ভবানী ঠাকুর নাকে নামাবলী চাপিয়া ধরিয়া কহিলেন, "ছ্যার, অনুমতি দিলে আমি এবার যাই। তবে একটু খেয়াল রাখবেন। আমার নাম নিয়ে যেন আবার টানাটানি না হয়। এই বুড়ো বয়ছে আমার আবার চোরের হাতে প্রাণনাছ না হয়। মানে আমার নামটা গোপন রাখাই ভালো - হেঁ হেঁ - আর কিছু না।" 'তা না হয় বুঝলাম হেঁ হেঁ , কিন্তু আপনার কি মুরগি চলে না হেঁ হেঁ ? ' বড়বাবুর মুখে এই প্রশ্ন শুনিয়া থতমত খাইয়া ভবানী ঠাকুর বলিলেন, " চলা তো দূরে থাক্ হেঁ হেঁ, ওর নাম পর্যন্ত আমরা উচ্চারণ করি নে, হেঁ হেঁ। তবে ছোটবেলায় দু চার বার খেয়েছি বৈকি - হেঁ হেঁ , তখনো আমরা কিন্তু নাম করতাম না, ঐ 'রাম পাখীর ইয়ে বলেই খেতাম । হেঁ হেঁ এই আর কি।" ভবানী ঠাকুর আরও কি সব বলিতে বলিতে ও হেঁ হেঁ করিতে করিতে বাহির হইয়া গেলেন। গোবর্ধন মাল উৎসুক নেত্রে বড় বাবুর প্রতি চাহিয়া রহিলেন। বড়বাবু কহিলেন , "কাজটা বেশ ভালোই করেছো গোবর্ধন । এবার ওই বউটিকে চিহ্নিত করে ধরে আনো দেখি। ওই চুল্লু খোর নটোবরটার ঘাড় ধরে নিয়ে গিয়ে ওর শালিটাকে ধরে নিয়ে এসো।' যেমন কথা তেমন কাজ পরদিন গোবর্ধন মাল, নটোবর সহ তার শালিকা মালতি কামার ও তার বছর চারেকের ছোট্ট মেয়ে কুসুম কে বড় বাবুর সামনে হাজির করিয়া তাহার টেবিলের উপর একটি জরাজীর্ণ কাপড়ের থলি রাখিলো। থলিটির গলা একটি দড়ি দিয়া শক্ত করিয়া বাঁধা রহিয়াছে । গোবর্ধন বাবু গলা ভারী করিয়া অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস ও দম্ভের সহিত কহিলেন , 'এই দেখুন স্যার, মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভাঙার যাবতীয় টাকা-পয়সা এই থলের মধ্যে করে ওর চালাঘরের মাচানের উপর শুকনো কাঠের তলায় লুকিয়ে রেখেছিল। আমি ঠিক খুঁজে খুঁজে বের করেছি। কী সাংঘাতিক মহিলা ভাবুন স্যার। একটুও পাপ-পুণ্যের ভয় আছে? এলাকাতেও ওর খুব বদনাম। লোকের বাড়ীর চাল ডাল থেকে শুরু করে , জ্বালানির কাঠ পর্যন্ত যা পায় তাই চুরি করে। উপায় থাকলে মেরে হাত পায়ের হাড় ভেঙে দিতাম। তবে কোনো দিন যাতে জামিন না পায় তার ব্যবস্থা করতেই হবে। এবারে কিন্তু স্যার শম্ভু বাবু আপনার উপর খুব খুশি হবেন" বড়বাবুর গোঁফের আড়ালে একটি পরিতৃপ্তির হাসি পরিলক্ষিত হইল । তিনি মহিলাকে কহিলেন, 'কিরে তুই মন্দিরের প্রণামী বাক্স ভেঙে টাকা পয়সা চুরি করেছিস?' মহিলা নির্বিকার চিত্তে বড় বাবুর দিকে চাহিয়া কহিল," হ্যাঁ করেছি" "কেন?" "আমার খুব খিদে । কেউ খেতে দেয় না" জরাজীর্ণ নোংরা শাড়ি পরিহিতা, শুষ্ক ওষ্ঠ, উস্কোখুস্কো একমাথা চুল, অবহেলা অনাদরের মোড়কে আপাদমস্তক আবৃত মহিলা একদৃষ্টে আনমনে ছাদের দিকে তাকাইয়া রহিলো । তাহার ভাবলেশহীন দুই চোখের কোন হইতে অশ্রুধারা ক্রমাগত নির্গত হইতে লাগিল, তথাপি সেই অশ্রু মুছিবার কোন প্রয়োজনীয়তা সে বোধ করিল বলিয়া মনে হইল না। চার বৎসরের ছোট্ট শিশু কন্যাটি পিছন হইতে তাহার মাকে জড়াইয়া ধরিয়া, তাহার জীর্ণ শাড়ির আঁচলের খুঁটটি মুখের ভিতর লইয়া অমৃতের নাই চিবাইতে ছিল , চুষিতে ছিল , খাইতে ছিল। আর অস্ফুট স্বরে আদো আদো কন্ঠে বারবার বলিতেছিল 'আমাল মা চুলি কলে নি। আমাল মা চুলি কলে না। আমাল মা পাগল। আমাল মা পাগল।' মা সিদ্ধেশ্বরীও শিশুর কথায় কর্ণপাত করার সময় পেলেন কিনা জানিনা। 'কত টাকা আছে? 'বড়বাবু জিজ্ঞাসা করিলেন। 'আর নাকছাবিটাই বা কোথা থেকে চুরি করলি?' 'অ -নে-ক টাকা । গোনা নেই। একটা ছাগল ছিল বিক্রি করে দিয়ে এই নাকছাবিটা কিনেছিলাম। মেয়েটার বিয়ে দিতে হবে তো - তাই। ওরতো বাবা নাই। সে আর একজনকে বিয়ে করে বহুদিন আগেই কোথায় চলে গিয়েছে। যা ভালো বুঝেছে করেছে । ভালো হয়েছে" 'তা তুই মন্দিরের টাকা চুরি করতে গেলি কেন ?' - বড়বাবু প্রশ্ন করিলেন। ' ঠাকুর বলেছে চুরি করতে, তাই করেছি' মহিলা উদাসীন ভঙ্গিমায় জবাবদিহি করিল। বড় বাবুর টেবিলের উপর স্তূপীকৃত বহু পুরাতন কিছু দশ, বিশ, পঞ্চাশ ও এক শত টাকার নোট সহ খুচরো পয়সা গুনিয়া দেখা গেল তাহার মোট পরিমাণ দুই হাজার তিন শত ছাপান্ন টাকা মাত্র। টাকা বাজেয়াপ্ত করা হইল। মহিলাকে তাহার শিশুকন্যাসহ চুরির অপরাধে জেলখানায় প্রেরণ করা হইল। শম্ভু বাবু পরিতৃপ্তির হাসি হাসিয়া, স্তাবকদের কহিলেন আমি না থাকিলে পুলিশ এত দ্রুততার সহিত এ কাজ করিতো না। স্তাবকবৃন্দ কহিলেন, 'সত্যি কথা বলতে কি আপনি যতদিন গাঁয়ে আছেন ততদিনই শান্তি। তারপর সব উচ্ছন্নে যাবে। আমরাও গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাব।" গ্রাম সুদ্ধ মানুষের মা সিদ্ধেশ্বরীর প্রতি ভয় ও ভক্তি দ্বিগুণ বাড়িয়া গেল। পুরোহিত ভবানী ঠাকুর এক ঘন্টা বেশি সময় ধরিয়া আরতী করিলেন। জগাই পালোয়ান সপরিবারে মুরগির মাংস সহযোগে অন্ন ভক্ষণ করিয়া , এক বাটি মাংস বড়বাবুর রান্নাঘরে সযত্নে চাপা দিয়া রাখিল। রাত্রিকালীন আহারে বড়বাবু শক্তিপ্রবল সামন্ত, মাংসের বাটি স্পর্শ না করিয়া, নিরামিষ অন্ন গ্রহণের পর মা সিদ্ধেশ্বরী কে প্রণাম করিয়া নিশ্চিন্তে নিদ্রা গেলেন। দারোগা গোবর্ধন মাল কর্মজীবনে তার এই ধরনের আরও অসংখ্য বীরত্বের কাহিনী জনে জনে গল্প করিলেন। কেবলমাত্র মা সিদ্ধেশ্বরীর অনুভূতির কথা বলিতে পারি না। সতীনাথ চট্টোরাজ বনগাঁ ১ জানুয়ারি ২০১৯ রাত ০০.০৫ মিঃ
Read More of Satinath
Photo caption
Duty & Public Service
5 April 2020Self-authored post
শিক্ষক
শিক্ষক — খবরটি শুনিয়া - নিতাই ডোম ও দুইজন উর্দিধারী সিপাই লইয়া , কৈখালী ঘাট হইতে নৌকায় উঠিয়া মাতলা নদী ধরিয়া কুলতলি অভিমুখে যাত্রা শুরু করিলাম। কার্তিক মাস। দিবস কাল গত হইতেছে। সূর্য পশ্চিমে হেলিয়া পড়িয়াছে। পশ্চিমাকাশ লালিমামন্ডিত হ...
Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবনগাঁকুলতলি
১লা বৈশাখ পুলিশের সামাজিক অনুভূতি গুলো বহুবছর আগেই নিজেদের অজান্তেই একটু একটু করে ক্রমাগত নিস্তেজ হতে হতে, হতে হতে — একদিন হৃদয়ের খাঁচা খুলে উড়ে যায় - তার খবর কে রাখে ? খাঁচা খুলে পালিয়ে যাওয়া সেই অশান্ত মনের উদ্ভ্রান্ত অনুভূতি, ক্লান্...
Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasons
একটি ছবি, আমাদেরই পুতুল খেলার বেলা। একটি ছবি, আমাদেরই মেঘের পথে চলা।। একটি ছবি, এঁকেছিলেম অভিমানের রঙে। একটি ছবি, এঁকেছিলেম কপট রাগের ঢঙে।। একটি ছবি, অভিমানে হারিয়ে কোথায় গেলি। একটি ছবি, কান্নাকাটি, আবার ফিরে এলি।। একটি ছবি, মাথাতে তোর আঁ...
Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবনগাঁ