সতীনাথ চট্টোরাজOpening the archive doors
Writings Archive
Original Bengali text
Devotion & Vedanta

Surrender, God, Guru, Vedantic thought, translation, and spiritual commentary.

মৃগনয়না

মৃগনয়না গ্রামেটির নাম কৃষ্ণমাটি। অধুনা নদীয়া জেলায় অবস্থিত। তবে লোকের মুখে মুখে কবে যে তা কৃষ্ণাটি হয়ে গেছে সে খবর কারো জানা নেই। শরিকানা সম্পত্তির পরিচিতি ও ভাগ বাটোয়ারার নিষ্পত্তির কারণে বহু বছর পর সেখানে যেতে হচ্ছে। আজই বিকালে বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত পার হয়ে এপারে এসে ট্রেন ধরেছি। নিকটবর্তী রেল স্টেশনে, ট্রেনের শেষ কামরা থেকে নামলাম। রাত বেশ গভীর হয়েছে। তা প্রায় বারোটা হবে। সুদীর্ঘ প্ল্যাটফর্মটাতে একমাত্র আমি একা। ইঞ্জিন পর্যন্ত গোটা প্লাটফর্ম টাতে অন্য কাউকেও নজরে এলো না। কেবলমাত্র পোর্টারকে লন্ঠন হাতে প্ল্যাটফর্মের অপর দিক থেকে এগিয়ে আসতে দেখলাম। একটিমাত্র সুদীর্ঘ প্ল্যাটফর্ম অপর দিক কেবলমাত্র ধানক্ষেত আর ধানক্ষেত। কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথি। শীত এখনো জমিয়ে পড়েনি। সোনালী ধানের শীষের উপর চাঁদের আলোর প্রতিফলনের মোহময়ী হাতছানিকে উপেক্ষা করা অসম্ভব না হলেও , দুরূহ বটে। প্ল্যাটফর্মের সুউচ্চ বাতিস্তম্ভের টিম টিমে আলো'কে, চাঁদের আলো গ্রাস করেছে। 'কোথায় যাবেন , বাবু?' লন্ঠন হাতে ধুতি পরিহিত, গায়ে চাদর জড়ানো, মাথা সহ মুখের বেশ কিছুটা অংশ মাফলার দিয়ে ঢাকা, বয়স্ক পোর্টার কখন পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে মালুম হয়নি। - কৃষ্ণমাটি যাব -কৃষ্ণাটি? সে তো বহুদূর। এত রাতে কিভাবে যাবেন? - কতদূর আর হবে ? - তা নয় নয় করে, ধরুন পাঁচ মাইল তো হবেই। আর পুরোটাই হাঁটাপথে আপনাকে যেতে হবে। - আচ্ছা । তবে পা চালিয়ে গেলে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে পৌঁছে যাব। - বাবু, আপনি আসছেন কোথা থেকে? কৃষ্ণাটিতে কাদের বাড়ি যাবেন ? - আমার বাড়ি বহুদূর। ঢাকা। বাংলাদেশে। কৃষ্ণমাটির রায়চৌধুরী বাড়ি যাবো। চেনেন নাকি? - বিলক্ষণ চিনি? এ তল্লাটের সবাই রায়চৌধুরীদের চেনে। সেকালের মস্ত বড় জমিদার। এখানকার আশপাশের বিশ পঁচিশ খানা গ্রামের সবই তো এককালে ওদেরই ছিল। বাংলাদেশেও নাকি উনাদের জমিদারী ছিল।খুব ছোটবেলায় একবার কৃষ্ণাটির বাবুদের বাড়ি গিয়েছিলাম । দুগ্গাপূজোর নেমন্তন্ন খেতে আর পালা গান দেখতে। একমস্ত বড় দুর্গা মন্দির । মন্দির সংলগ্ন প্রায় দশ বিঘা জায়গাজুড়ে মেলা বসেছে, তার এক ধারে লাইন দিয়ে বসে হাজার হাজার লোকের খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে। অন্য ধারে যাত্রাপালা চলছে। কংস বধ পালা। আশেপাশের দশ বিশটা গাঁয়ের লোক দুগ্গা পুজোর চার দিনই বাবুদের বাড়িতেই খাওয়া দাওয়া সারতো। মেলা চলত এক টানা সাত দিন, তার সাথে চলত যাত্রা গান। সেদিন কি আর আছে? জমিদারি চলে গেল। বাবুরাও সব এক এক করে গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে চলে গেলেন। এখন তো সব ভগ্নস্তূপ, আর ঐ ভগ্নস্তূপ দেখভাল করার জন্যে এখন এক জন থাকে। - কি নাম তার ? - জানেন ? - দয়াল বাবু। দয়াল নন্দী । ওদের সাত পুরুষ ওই কৃষ্ণাটির বাবুদের নায়েবগিরি করতো। দয়াল বাবুর'ও বেশ বয়স হয়েছে। তা প্রায় পঁচাত্তর আশি হবে। বুঝলাম আশেপাশে দয়ালদা'র পরিচিতি আছে। - আপনার নাম? - জগন্নাথ দাস। পাশেই ভরতপুর গ্রামে বাড়ি। এই শেষ ট্রেন ছেড়ে দিলাম, এবার বাড়ি চলে যাবো। কথাগুলো শেষ করেই, লোকটি নিজের মত টিকিট ঘরের দিকে হাঁটা শুরু করলো। আমিও টিকিট ঘরের পাশের সিঁড়ি দিয়ে নেমে ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে পশ্চিমদিকের রাস্তা ধরলাম। কার্তিক মাস। আজ রাস-পূর্ণিমা । দু'পাশের বিস্তীর্ণ সোনালী ধান ক্ষেতের মাঝ বরাবর সুদীর্ঘ মেঠো রাস্তা। বহুদূর পর্যন্ত নজরে আসছে। খুব ছোটবেলায় বাবার সাথে এই রাস্তা ধরেই একবার কৃষ্ণমাটি এসেছিলাম। রাস্তাটার কথা আজও ভুলিনি। এই সুদীর্ঘ পথের আশেপাশে কোন বসতি নেই । বিভিন্ন গাছগাছালি, খেজুর বাগান, তালবাগান, আমবাগান , অসংখ্য ধরনের চেনা অচেনা গাছপালা। স্টেশন থেকে মাইল দুয়েক হাঁটার পর একটা বেশ বড় মাপের বিল ছিল। জলের উপর জেগে থাকা হাত দুই-আড়াই উঁচু শীষ সম্বলিত ধান গাছের মাঝখান দিয়ে, নৌকা করে বিল পার হয়ে ওপারে গিয়ে আবার রাস্তা ধরতে হতো। তখন বিলেন জমিতে ঐ এক ধরনের ধান চাষ হতো , বিল শুকনো থাকার সময় ধান রোয়া হত। বর্ষা আসার সাথে সাথে বিলে জল জমতে থাকতো আর জল বাড়ার সাথে সাথে ধান গাছগুলোও তার সাথে পাল্লা দিয়ে উচ্চতায় বাড়তে থাকতো। জলের গভীরতা খুব বেশি না থাকলেও মস্ত চওড়া ছিল সে বিল। প্রচুর মাছ হত সে বিলে । মাছের স্বাদও ছিল খুব ভালো। জেলেরা বিলে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতো। অসংখ্য ধরনের পাখি ও বিভিন্ন রঙের বক চরে বেড়াতো । নৌকো চেপে যাত্রীরা যখন সেই বিলপাড়া পার হত তখন পার থেকে কখনো কখনো যাত্রীসহ নৌকো দেখা যেত আবার কখনো তা ধানের আড়ালে লুকিয়ে পড়তো। চলন্ত নৌকোয় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের দেখে মনে হতো , ওস্তাগারের কাঁচির মতো ধান শীষের চাদর ক্রমাগত ছিন্ন করতে করতে, অকম্পিত লয়ে নির্দিষ্ট গতিতে ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কেউ যেন পাড়ের দিকে এগিয়ে আসছে। ধান গাছের সাথে নৌকোর কাঠের শরীর সহ বৈঠা ও হালের নিত্যনৈমিত্তিক সংঘর্ষের ঘ্যাস ঘ্যাস আওয়াজ করে নৌকা পারে ধাক্কা বিয়ে ঝাকুনি খেয়ে থামতো। নৌকোর শরীরের সাথে জুড়ে আশা বেশ কিছুটা জল প্রবল উন্মাদনায় ছলাৎ করে পাড়ের উপরে উঠে এসে আবার শীতল গতিতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গিয়ে মিসে যেত স্থির জলরাশিতে। বিলের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে কিছু দূরে ঝোপ জঙ্গলে ঘেরা সাঁওতাল পাড়া। সেখানে কুড়ি পঁচিশ ঘর সাঁওতালদের বাস। জ্যোৎস্না আলোয় প্লাবিত ধপ ধপে উঠানের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দড়ির খাটিয়া পেতে শুয়ে থাকত তারা। খড় দিয়ে নিপাট ভাবে ছাওয়া মাটির ঘরগুলোর দেওয়ালের উপর খড়ি দিয়ে আঁকা থাকত কত সব পশুপাখি দেব দেবতার বিচিত্র ছবি। প্রতিটি ঘরে যেন মা লক্ষ্মীর বাস। সন্ধ্যাবেলায় হাড়িয়া খেয়ে মাদল বাজিয়ে গান গাইত ওরা - ধেনো জমির উপর দিয়ে ঝির ঝিরে হাওয়ার সাথে ভেসে আসতো মাদলের বোল আর নেশা জাগানো সুর - সে সুরে মিশে থাকতো হারিয়ে যাওয়া 'অজানা কি যেন' খুঁজে পাওয়ার বাসনা। এত বছর পরেও কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হল না। ভাবতে ভাবতে কখন বিলের ধারে এসে পৌঁছেছি। এবড়োখেবড়ো রাস্তার বিলেন পথ , কোথাও অল্প বিস্তর জলকাদা পার হয়ে আবার কৃষ্ণমাটির রাস্তা ধরলুম। আর মাইল দেড়েক রাস্তা পার হলেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাব। এক অনির্বচনীয় রোমাঞ্চ, উন্মাদনা, আনন্দে প্রাণ নেচে উঠলো। মিনিট পনেরর রাস্তা হাঁটার পর রাস্তা পার্শস্হিত এক সুবিশাল পুকুর ও তার পাশেই সুপ্রাচীন বটগাছ , তা থেকে নেমে এসেছে অসংখ্য ঝুরি । তার মধ্যে কতক মাটি স্পর্শ করেছে, কতক আবার স্পর্শ করেছে পুকুরের জলও। বটগাছটি মাঝখানে রেখে চারিদিকে বেশ অনেকটা ফাঁকা জায়গায়। দুপুরে এখানে রাখাল ছেলেরা দলবেঁধে ডাংগুলি খেলতো , ঝুরি ধরে দোল খেয়ে পুকুরের জলের উপর দিয়ে বেশ কিছুটা ঘুরে আসতো, যেন পুকুরের জলকে অমান্য অগ্রাহ্য করে অনায়াসে তার রাজ্যপাটে প্রবেশ করত। অসাধ্যকে সাধন করার , অজেয় কে জয় করার এবং দূর্গম স্হলে গমন করে পরিতৃপ্তি লাভ করা মনুষ্য চরিত্রে রাজা ও রাখাল নির্বিশেষে সহজাত। দুদিকে ধানিজমি ,নারকেল গাছ ,তেঁতুল গাছ ,ঝোপঝাড় পার হয়ে এগিয়ে চলেছি। আজ জোৎস্নাআলো এতটাই উজ্জ্বল যে বহুদূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। একটা মস্ত বড় খেজুর বাগান পার হয়েই বেশ কিছুটা দূরে বিশালাকার জমিদার বাড়ি আবছা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত পা চালাতে শুরু করলাম। যত নিকটে আসছি বাড়িটির আকৃতি ততই বড় দেখাচ্ছে ও তার জরাজীর্ণ অবস্থা প্রকটিত হচ্ছে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি রাস্তাটি দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে এবং দুটি রাস্তাই জমিদার বাড়ির দিকেই গেছে। মস্ত বড় এলাকা নিয়ে জমিদার বাড়ি। কোন রাস্তাটি ধরলে সঠিক জায়গায় পৌঁছাব ঠাওর করতে না পেরে দাঁড়িয়ে পড়লাম। ঘড়ির কাঁটায় রাত দুটো পনেরো। আটপৌরে ঢঙে শাড়ি পরিহিতা, কাঁকে জল ভর্তি কলস নিয়ে , রাস্তা সংলগ্ন বিশাল বাঁধানো পুকুর ঘাটের স্যাঁতলা পরা সিঁড়ি ভেঙে এক মহিলাকে উঠে আসতে দেখলাম। । নিকটে আসিলে, জিজ্ঞাসা করিলাম, "আচ্ছা মজুমদার বাড়ি যাওয়ার রাস্তা কোনটা, বলবেন ?" তিনি আমার সম্মুখে চোখে চোখ রেখে সোজা দাঁড়িয়ে পড়লেন। ইতস্তত ও অপ্রতিভ বোধ করলাম। যেন বহুদিনের পরিচিত। অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সপ্রতিভ, উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, টিকালো নাক, বাঙ্ময় চোখ ,উচ্চতা- প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট, ছিপছিপে গড়ন, এক পিঠ খোলা চুল। লক্ষ্য করিলাম কলস টি তামার। ভিজে খালি পায়ে নুপুর পরা। দুই হাতে বেশ কিছু ভারী সোনার চুড়ি। কানে সোনার দুল। নাকে সেকেলে ধরনের নাকছাবি। ডান হাত তুলে তর্জনী নির্দেশ করে রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে আনন্দ দুঃখ যন্ত্রণা আশা-নিরাশা অভিমান মিশ্রিত সে দৃষ্টি তে একইভাবে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন ও তারপর অত্যন্ত দীপ্তিময় ভঙ্গিমায় ধীর পদক্ষেপে অন্য পথটি ধরে এগিয়ে গেলেন। যে পথ তিনি ধরলেন , দুদিকে জঙ্গল ঘেরা সেই পথ সামান্য সামনে গিয়ে ডান দিকে বাঁক নিয়েছে। বাঁকের মুখ পর্যন্ত তাকে যেতে দেখলাম। তারও অল্প সময় পর পর্যন্ত সেই নির্জন জোছনালোকিত রাতে তার পায়ের নুপুরের আওয়াজ পেলাম। ধীরে ধীরে নুপুরের সেই শব্দ ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের সাথে মিশে গেল। শক্তপোক্ত পুরনো আমলের একটি খাটের উপর আপাদমস্তক চাদর চাপা দিয়ে তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। মুখের উপর থেকে চাদর সরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন," কে?" বললুম , "আমি গো, শিবনাথ। শিবনাথ রায়চৌধুরী। ঢাকা থেকে আসছে।" "শিবনাথ দাদাবাবু ? - সেই এতোটুকু বেলায় তোমাকে দেখেছি। দুদিন আগে তোমার চিঠি পেয়েছি। আমি তো ভেবেছিলাম বিকালের মধ্যেই এসে পৌঁছোবে। এত রাত হয়ে গেল কি করে? দাঁড়াও দাঁড়াও দাঁড়াও আগে দরজাটা খুলি। দেখতে দেখতে আমারও প্রায় আশি বছর বয়স হয়ে গেল - আর কতদিন যে এই প্রেতপুরী পাহারা দেব ভগবান জানে। " লন্ঠন টা উসকে নিয়ে, কথাগুলি বলতে বলতেই দয়াল'দা ভেতর থেকে দরজা খুললেন , আমি তার পিছন পিছন ঘরে ঢুকলাম। বেশ বড় মাপের একটি ঘর। উত্তর , দক্ষিণ ও পশ্চিমে বড় বড় গরাদ দেওয়া জানলা ভেদ করে জ্যোৎস্নার আলো ঘরে এসে পড়ছে। পূর্বদিকে দালান সংলগ্ন বৃহৎ দরজা। কাঠের টুলের উপর রাখা তামার কলসি ও একটি তামার গ্লাস। উত্তর-পূর্ব কোণে আবলুস কাঠের, কাজকরা পায়া ওয়ালা টেবিল। টেবিলের পাশে জমিদারী আমলের বার্মাটিক সেগুন কাঠের আলমারি - তাতে মস্ত এক তালা লাগানো। উত্তর দিকে দুই জানালার মাঝখানে বসানো বৃহৎ মার্বেল পাথরের অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ করা সিংহাসনে অত্যন্ত সযত্নে রক্ষিত কালো পাথরের শিবলিঙ্গ। সামনে পূজার সমস্ত উপাচার। দেখলেই বোঝা যায় নিয়মিত ফুল বেলপাতা দেওয়া হয় । দয়াল'দা শিবের উপাসক। ঘরের এক পাশে একটি পালিশ করা বেশ ভারি ও মজবুত কাঠের আলনা। বেশ কয়েকটি ধুতি, কলারওয়ালা পাঞ্জাবি, শীতের চাদর, একটি কাশ্মীরি শাল, ভাঁজ করে আলনার উপর রাখা। বুঝতে অসুবিধা হলো না সেগুলো দয়াল দা'র। ভারী গলা। ঘন এক মাথা সাদা চুল, সাদা পুষ্ট পাকানো গোঁফ, শ্যাম বর্ণ , ছয় ফুট উচ্চতার ঋজু শক্তপোক্ত চেহারার দয়াল দা'কে দেখলে মনে হয় না - তার বয়স আশি ছুঁয়েছে, চলাফেরা ও কথাবার্তায় অসম্ভব আত্মবিশ্বাস। "চলো দাদাবাবু, পাশের ঘরে চলো। তোমার চিঠি পাওয়ার পরই তোমার থাকার জন্য পাশের ঘরটা আমি পরিষ্কার করে রেখেছি। দালানে বালতিতে জল তোলা আছে, তুমি হাত পা ধুয়ে জামা কাপড় পাল্টে নাও । আমি ততক্ষণে একটু দুধ গরম করে ফেলি। আজ রাতটা তোমাকে কষ্ট করে দুধ মুড়ি খেয়েই কাটাতে হবে।" কথা বলতে বলতেই ঘরের এক কোণে রাখা একটা হারিকেন জ্বালিয়ে হাতে নিয়ে তিনি পাশের ঘরের ভেজিয়ে রাখা সাত ফুটের দরজাটা খুলে আমাকে ইশারায় ভিতরে যেতে বললেন। বিশাল আয়তনের ঘর। লোহার করি বর্গার অনেক উঁচু ছাদ। ঘরের দেওয়াল গুলো পুরনো আমলের চুনের মসৃণ পলেস্তারা করা। বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। একপাশে কালো পালিশ করা আবলুস কাঠের পালঙ্ক তার উপর ধবধবে সাদা চাদরে মোড়া বিছানা । অন্য পাশে বেলজিয়াম কাঁচ লাগানো সাবেকি ড্রেসিং টেবিল। ঘরের মাঝখানে সাদা মার্বেল পাথরের গোলাকৃতি টেবিল তার উপর ঢাকা দেওয়া একটি কাঁচের গ্লাস ও জলের পাত্র। টেবিলের চারপাশে চারটি গদি লাগানো পালিশ করা সেগুন কাঠের চেয়ার। পূর্ব দিকের দেওয়াল জোড়া পালিশ করা সেগুন কাঠের আলমারি ।ঘরের দেওয়ালে তেল-রং করা কয়েকটি পুরনো ছবি। ঘরটির উত্তর দিকে অর্থাৎ বাড়ি সংলগ্ন পিছনের আমবাগানে দিকে দুটি জানালা, একটি দরজা । দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ দালানের দিকে দুটি জানালা। পূর্ব দিকে কেবলমাত্র একটি দরজা , যে দরজা দিয়ে আমি দয়াল দা'র সাথে এই ঘরে ঢুকেছি। পশ্চিম দিকে কোন দরজা-জানালা নেই। প্রতিটি দরজা-জানলার বাইরের দিকে কাঠের খরখরে লাগানো পাল্লা ও ভিতরের দিকে কাঁচের পাল্লা। দয়াল দা কে উদ্দেশ্য করে বললাম," আজ রাতে আর কিছু খাব না কাল দেখা যাবে" । আমার কথা শুনে খাওয়ার জন্য খুব বেশি জেদাজেদি না করে বললেন, তোমার সব জিনিসপত্র আলমারির মধ্যে রেখো। আলমারি খোলাই আছে। পিপাসা পেলে এই জলটা খেও, আজ বিকালেই রাখা । তবে শুয়ে পড়ো - বিশ্রাম নাও। আর হ্যাঁ, রাতের বেলায় উত্তর দিকে দরজা জানলা না খোলাই ভালো। ওদিকটায় তো আম বাগান - তারপর ভাঙ্গা দুর্গা মন্দির - তারপর তো সব ধ্বংসস্তূপ আর খোলা ধু-ধু মাঠ । তুমি তো এখন ওই পথ দিয়েই এলে। সবই তো দেখতে দেখতে এসেছ। কাল সব কাজের কথা ও গল্প-গুজব হবে। এবারে শুয়ে পড়ো।" দয়াল দা পাশের ঘরে চলে গেলেন। আমি হ্যারিকেনের আলোটা খানিকটা কমিয়ে দিয়ে পূর্ব দিকের দরজা বন্ধ করলাম। শোবার আগে উত্তরের জানালা দুটোর বাইরের দিকের কাঠের পাল্লা গুলো খুলে দিয়ে ভিতরের দিকের কাঁচের পাল্লা গুলো বন্ধ রাখলাম। দক্ষিণে মাথা রেখে পালঙ্কের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে উত্তরের জানালার কাঁচের পাল্লার ভিতর থেকে পূর্ণিমা আলোয় ধুয়ে যাওয়া খানিকটা দূরের দুর্গা মন্দির, বিচ্ছিন্ন ভগ্নস্তূপ, খোলা ধুধু মাঠ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে গেলাম। ভোরের আলো চোখে পড়তেই ঘুম ভেঙে গেল। ভোরের অপার্থিব পবিত্র স্নিগ্ধ আলোয় চারিদিক মোহময় হয়ে উঠেছে। নিজেকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে পারলাম না। পাঞ্জাবি পাজামা পরিহিত অবস্থায় উত্তরের দরজা খুলে আম বাগানের ভিতর দিয়ে দুর্গা মন্দিরের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। পায়ে পায়ে দুর্গা মন্দিরের সামনে উপস্থিত হলাম। এই জায়গাটা আশেপাশের এলাকা থেকে অনেকটা উপরে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে মন্দিরটি যেন একটা টিলার উপর অবস্থিত। এখান থেকে চারিদিকটা অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। চারিদিক একেবারে নির্জন, আকাশ লালিমামন্ডিত, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি রক্তিম আকাশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে উড়ে যাচ্ছে। কেবল বাতাস আর ভোরের পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ। আশেপাশের ঝোপঝাড়ের মধ্যে অসংখ্য আকন্দ, ধুতরা, কলকে, গন্ধরাজ, জবা, টগর ও আরো নাম না জানা বুনো ফুলের গাছ। প্রকৃতির যত্নে লালিত গাছগুলি ভীষণ প্রাণবন্ত। মন্দিরটির ডানদিকে বহু পুরনো একটি কৃষ্ণচূড়া ও বাঁদিকে একটি রাধাচূড়া গাছ। সামনে সুবিশাল অশ্বত্থ গাছের ডালপালা চারিদিকে বিস্তার লাভ করেছে। যতদূর দৃষ্টি যায় কেবল ঝোঁপ-জঙ্গল, গাছপালা, বিচ্ছিন্ন কিছু ভগ্নস্তূপ ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত জমিদারী আমলের বাড়ি ছাড়া অন্য কোন বাড়ি ঘরদোর বা বসতি চোখে পরে না। নাটমন্দিরের ধাঁচে তৈরি এই মন্দির। বারোটি মোটা মোটা প্রায় দোতলা সমান উঁচু স্তম্ভের উপর কাঠের করি-বর্গার ছাদ। ছাদ সংলগ্ন নিচের বেশ কিছুটা অংশ চারিদিকে সূক্ষ্ম কাজ করা জাফরি দিয়ে ঘেরা। লম্বা ধরনের মন্দিরটির মেঝে মার্বেল মোড়া ও মাটি থেকে প্রায় ফুট চারেক উঁচু। একদিকে মার্বেল নির্মিত প্রতিমার বেদি সংলগ্ন ভোগের ঘর, দরজা-জানলা ভাঙ্গা। ছাদের এক পাশের বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে পড়েছে। বেশ কয়েকটি স্তম্ভের পলেস্তারা খসে ভিতরের ইট বেরিয়ে এসেছে। ছাদের উপর বড় বড় বট গাছ জন্মেছে। মন্দিরের সামনে থেকে পায়ে চলার সরু রাস্তা ঝোপ জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ক্রমশ ঢালুর দিকে নেমে গিয়ে ডান দিকে মোড় নিয়েছে। দেখে মনে হল পথটি বেশ কিছুটা দূরে একটা সুবিশাল ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত দোতলা বাড়ির দিকে গেছে। মন্দিরে ওঠার জন্য মার্বেল বাধানো লম্বা সিঁড়ির উপর বসে , গতরাতে রেলস্টেশনে জগন্নাথের মুখে শোনা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর ছবি , মেলা বসেছে , যাত্রাপালা চলছে, লোকে লোকারণ্য ইত্যাদি সব নিজের অজান্তেই, কল্পনার চোখে দেখতে পাচ্ছিলাম । পায়ে চলা সরু রাস্তাটার দিকে নজর পড়তেই দেখি , ঢালের নিচের দিক থেকে, কাঁকে তামার কলস নিয়ে গত রাত্রে দেখা সেই ভদ্রমহিলা একই ধরনের পোশাকে ক্রমশ মন্দিরের দিকে এগিয়ে আসছেন। অবাক হলাম। কাছে এসে, তিনি আমার দিকে একবারও দৃষ্টিপাত না করে আমার পাশ দিয়ে সিঁড়ি ভেঙে মন্দিরে উঠলেন। আমারও পিছনে তাকিয়ে তাকে দেখতে সংকোচ বোধ হল। অনুমান করলাম সম্ভবত মায়ের বেদীতে তিনি জল দেবেন। অনতিবিলম্বে তিনি আবার আমার পাশ দিয়ে নেমে গিয়ে যে পথে এসেছিলেন সেই পথে পা রাখা মাত্র আমি পিছন থেকে বললাম, " শুনছেন?" পিছনে না ঘুরে বা না তাকিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে বললেন," বলুন " "গত রাত্রে আপনি আমাকে পথ দেখিয়েছিলেন। না হলে হয়তো অনেক ঘুরতে হত। আপনাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলাম না - তাই। আপনার পরিচয় জানার খুব আগ্রহ হয় ..." আমার কথা শুনেও একই রকম ভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। বা কাঁকে বা হাত দিয়ে জড়ানো কলস। লক্ষ্য করলাম ডান হাতের মুঠি অত্যন্ত শক্ত করে চেপে ধরলেন জানো নিজেকে সংবরণ করলেন তারপর আস্তে আস্তে আবার হাতের মুঠি ছেড়ে দিয়ে, কোন কথা না বলে পিছন ফিরে না চেয়ে, ফেরার পথে হাঁটতে শুরু করলেন। আবার একটু জোরে বললাম, "শুনছেন? আমি কি কোন অন্যায় করলাম?" আবার স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে, পিছনে না ফিরে, বললেন," সন্ধ্যায় দেখা হবে।" ঝোঁপ জঙ্গলের ভিতর দিয়ে, ঢাল বেয়ে, সরু রাস্তা ধরে কিছুটা নেমে গিয়ে ডান দিকে মোড় নিলেন। স্বভাবতই আর দেখা গেল না। আমি স্তম্ভিত নির্বাক হয়ে তার ফেরার পথে চেয়ে রইলাম। তার কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরলাম। পূর্ব পশ্চিমে লম্বা , দক্ষিণ দিকের দালান জুড়ে সদ্যোজাত মিঠে রোদ্দুরে মুখোমুখি দুটি হেলানো বেতের চেয়ারের মাঝখানে চা-কাঠের পায়ার উপর তৈরি মোটা কালো কাঁচের টি টেবিল । টেবিলের একপাশে লাল-সালুতে জড়ানো বেশ কিছু কাগজ ও ফাইল পত্র। পরিপাটিভাবে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত, গায়ে চাদর , পায়ে কালো জুতো, মোজা পরা পায়ের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে - নায়েবিয়ানা ভঙ্গিমায় দয়াল দা পূর্ব দিকে পিছন করে তার একটি তে বসে আছেন। আশি বছর বয়সেও তাকে অত্যন্ত সম্পৃক্ত, উজ্জীবিত , সতেজ ও আত্মপ্রত্যয়ী দেখাচ্ছিলো - দেখে তার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান জন্মালো। আমাকে দেখা মাত্র জিজ্ঞাসা করলেন, "ভোরের বেলা বেরিয়ে গেছিলে বুঝি? রাতে ঘুমোতে অসুবিধা হয়নি তো ? তা কোন দিকে গিয়েছিলে?" বললাম," না না, একটুও অসুবিধা হয় নি। এই দুর্গা মন্দিরের কাছ থেকে একটু ঘুরে এলাম আর কি।" "ওদিকটায় বড় একটা কেউ যায় না। ভীষণ জঙ্গল। আমি কাল তোমায় ওখানে যেতে নিষেধ করব ভেবে আবার ভুলে গেছি। বয়স হলে যা হয় আরকি। " কিছুক্ষণ আনমনা হয়ে গিয়ে আবার শুরু করলেন,"ওই দুর্গামন্দির নিয়েই তো এক ইতিহাস। " "ইতিহাস? কিসের ইতিহাস" - উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন," আজ কাজ মিটিয়ে নি। সে তোমায় না হয় কাল বলব। তুমি তো এখন কয়েকদিন আছো। যাও যাও হাত মুখটা ধুয়ে এসো তারপর একসাথে চা খাবো।" হাতমুখ ধুয়ে এসে বসলাম। দয়াল'দা একটু হেঁকে বললেন, "কাঙালের মা, দাদাবাবু এসে গেছেন। চা টা এবার দাও" মাঝবয়সী শক্তপোক্ত আদিবাসী মহিলা, ট্রে'তে বসিয়ে ঢাকনা দেওয়া স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে দু'গ্লাস জল, পরিচ্ছন্ন , মার্জিত ও অভিজাত রুচির প্লেটের উপর বসানো কাপে দু'কাপ চা ও আলাদা দুটি প্লেটে কতগুলি ব্রিটানিয়া বিস্কুট নিয়ে এসে টেবিলের উপর রেখে গেলেন। বুঝলাম জমিদারি আদব-কায়দাটা দয়াল'দা এখনো কিছুটা হলেও ধরে রেখেছেন। বললেন, " দুপুরে, দেশি মুরগিটার একদম পাতলা করে ঝোল করবি। বেশি ঝাল্ দিসনে যেন। দাদাবাবু শহরে থাকেন তো, বেশি ঝাল সহ্য হবে না।" কাঙালের মা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানিয়ে চলে গেল। দয়ালদা'র মুখে শুনলাম, কাঙালের মা প্রতিদিন খুব সকালবেলা চলে আসে। সকালের চা জলখাবার, দুপুর ও রাতের রান্না তথা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় কাজ সেই করে। রাতের খাবারটা সন্ধ্যায় তৈরি করে রেখে দিয়ে, পায়ে হেঁটে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে সাঁওতাল পাড়ায় তার ঘরে চলে যায়। কাঙালের মায়ের বয়স যখন বারো, তখন তার মায়ের সাথে এই বাড়ীতে এসে হাতে হিল্লে দিত। বহু বছর হলো মা মারা গেছে। কাঙালের মায়েরও - এ বাড়িতে প্রায় চল্লিশ বছর হয়ে গেছে। খাপ থেকে কালো মোটা ফ্রেমের আয়তকার চশমাটি বের করে চোখে পড়ে নিয়ে , লাল সালুর গিঁট খুলে , জমিজমা সংক্রান্ত বেশ কিছু দলিল , রেকর্ড ও ম্যাপ বের করে দয়াল'দা , আমাদের অংশের জমির সমস্ত দলিল , রেকর্ড ও ম্যাপ আমার হাতে তুলে দিয়ে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তথা অবস্থান ছবির মত বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, "বহুদিন এসব আগলে রেখেছিলাম । আজ তোমার হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হলাম। এবার সব তোমরা দেখে শুনে নেবে। আমি আর যে কটা দিন আছি এখানেই কাটিয়ে দেব। আর যাবোই বা কোথায় , আমার তো আর কেউ নেই। জন্ম থেকে আশিটা বছর এই বাড়িতেই কেটে গেল। মালিকরাই সব ভিটে ছেড়ে চলে গেলন - মায়া কাটিয়ে যেতে পারলাম না আমি। " জলখাবার খেয়ে দয়ালে'দার সাথে বেরিয়ে পড়লাম। দুপুর অবধি ঘুরে ঘুরে তিনি নানান জমি, পুকুর ,গাছগাছালি , বাগান ইত্যাদি দেখালেন ও তার অংশীদারিত্ব বোঝালেন। ফিরতে ফিরতে প্রায় বিকাল হয়ে গেল। স্নানাহার সেরে একটু বিশ্রাম নিতেই সন্ধ্যা নামল। দয়াল'দা গরদের ধুতি ও গায়ে নামাবলি জড়িয়ে তার ঘরের সিংহাসনের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে, ধূপ ধুনো দিয়ে পুজোতে বসলেন। সেই সুযোগে আমি আমার ঘরের পূর্ব দিকের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রেখে উত্তর দিকের দরজা খুলে তা বাইরে থেকে ভেজিয়ে রেখে দুর্গা মন্দিরের দিকে বেরিয়ে গেলাম। ঘরের ভিতরে বিশ্রাম নিচ্ছি ভেবে দয়াল'দা নিশ্চয়ই আমাকে আর ডাকবেন না। গতকাল পূর্ণিমা গেছে। আজও আকাশে প্রায় একই রকম চাঁদ উঠেছে। হালকা ঠান্ডা। অল্প বাতাস বইছে। মন্দিরের সামনে পৌঁছে, ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে যাওয়া রাস্তার দিকে চেয়ে রইলাম। অনতিবিলম্বে তাকে আসতে দেখলাম। আমার সামনে পৌছেই বহুদিনের পরিচিতর মত চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞাসা করলেন , "জমি জায়গা সম্পত্তি সব বুঝতে পারলেন?" মৃদু হাসলেন। তার উপস্থাপনা, বাচনভঙ্গি ও একটিমাত্র বাক্যে আমার সমস্ত আরষ্টতা কেটে গেল। চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বললাম," না, তেমন কিছু নয়" "তেমন কিছু নয় ? মানে? আপনিতো সম্পত্তি বুঝে নিতেই এসেছেন? তাই না?" আবার সেই হাসি। "দয়ালবাবু জন্মসূত্রেই আপনাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত। সব কিছু খুব নিষ্ঠার সাথেই খেয়াল রাখেন। দলিলপত্র তো সব আজ আপনাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বুঝতে পেরেছেন? আচ্ছা, এই মন্দিরটাও কি আপনাদের শরিকানার মধ্যেই পরল? কি বললেন নন্দীবাবু? " বললাম, " না। মন্দিরটা আমাদের অংশের নয়। ওটা মজুমদারদের অংশের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু তাদের তো আর কেউ বেঁচে নেই। সবই নাকি সরকার দখল নেবে।" "সামনে একটা খুব সুন্দর জায়গা আছে । যাবেন?" ভদ্রমহিলা যে পথে এসেছেন সেই পথের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে উচ্ছল ভঙ্গিমায় বললেন। "ওই যে বাড়িটা দেখছেন, ওখানে।" এই অসময়ে ঝোপ জঙ্গলের ভিতর রাস্তা দিয়ে ওখানে যাব? এই বুদ্ধিমতী, সপ্রতিভ ,সম্ভ্রান্ত , অলংকার পরিহিতা অভিজাত আচরণের মহিলাটি কে? তিনি এত কিছু জানেন কি ভাবে? এই পান্ডব বর্জিত স্থানে তিনি একা কোথা থেকে আসেন? কোথায় যান ? - ভাবতে ভাবতে একটু অন্য মনস্ক হওয়ামাত্র ভদ্রমহিলার কথায় সম্বিত ফিরে পেলাম, " নিশ্চয়ই ভাবছেন, ওখানে যাওয়া ঠিক হবে কিনা। আর আমিই বা কে - তাইতো? - চলুন কোন ভয় নেই। আমি একজন মহিলা আপনার কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা আমার নেই। আর এখানের সমস্ত গাছপালা পশুপাখি ও আমাকে চেনে সুতরাং তাদের দ্বারাও আপনার কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। আমি 'কে' - সেও আপনি জানতে পারবেন। চলুন কোন ভয় নেই" "কিন্তু আমি যে দয়াল'দাকে না বলে চলে এসেছি" "নন্দী বাবু এখন পুজো করছেন। আটটার আগে তার পুজো শেষ হয় না। তার আগে আমি আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসবো। চলুন।" মন্ত্রবৎ তার পাশে পাশে হাঁটতে শুরু করলাম। এই নির্জন জনশূন্য স্থানে কে এই অপরূপা নারী? চাঁদের আলোয়, তার দৃষ্টিতে ও মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তিতে অদ্ভুত এক পরিতৃপ্ত ও আনন্দের নিয়ন্ত্রিত প্রকাশ অনুভব করলাম। দুপাশে বড় বড় গাছ ও ঝোঁপ জঙ্গলের ভিতর দিয়ে সরু রাস্তা ধরে মিনিট দশেক হাঁটার পর, দূর থেকে দেখতে পাওয়া , সেই প্রকাণ্ড ভগ্নদশা আর এক জমিদার বাড়ির সামনে উপস্থিত হলাম। বাড়ির সামনে সবুজ ঘাসের লন। অযত্নের কারণে তা ইতস্তত আগাছায় ভরে আছে। মাঝখানে মস্ত এক গোলাকার লোহার টেবিলকে ঘিরে দুজন করে বসার মতো কয়েকটি লোহার বেঞ্চ। পুরনো আমলের লোহা, কোথাও এতটুকু মরচে ধরে নি। "চলুন ওখানে বসি" তার কথামতো , হেলান দেওয়া একটি বেঞ্চে পাশাপাশি বসলাম। "এ বাড়িতে কে বাস করে?" , জিজ্ঞাসা করলাম। - "আমি আর হরি" - "হরি কে ?" - "আমার দেখভাল করে।" - "কোথায় তিনি?" - "ভিতরেই আছে।"ভদ্রমহিলা আবার বলতে শুরু করলেন, "আপনার নাম তো শিবনাথ রায়চৌধুরী ? আপনার পূর্বপুরুষদের জন্ম এখানে হলেও আপনার ও আপনার পিতার জন্ম ঢাকাতেই। কোন এক কারণে, আপনার প্রপিতামহ অর্থাৎ আপনার ঠাকুরদাদার পিতা অপূর্বনারায়ন রায়চৌধুরী প্রায় দেড়শ বছর আগে কৃষ্ণ মাটি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান ও সেখানকার জমিদারি দেখভাল করতেন। তিনি আর কৃষ্ণ মাটি ফেরেননি। তার ভাই রাজনারায়ণ রায়চৌধুরী কৃষ্ণ মাটির জমিদারি দেখাশোনা করতেন। রাজনারায়ণের বংশধরেরা এখন সব মহারাষ্ট্রের নাগপুরে থাকেন। অপূর্বনারায়নের দুই সন্তান ছিল তীর্থরাজ রায়চৌধুরী ও প্রতাপরাজ রায়চৌধুরী। আপনি অপূর্ব নারায়ণের ছোট তরফের বংশধর অর্থাৎ প্রতাপরাজ রায়চৌধুরীর পৌত্র অর্থাৎ নাতি। তীর্থরাজ ছিলেন অত্যন্ত দর্শনধারী, উদার, মেধাবী, ন্যায়পরায়ন, দয়ালু ও একরোখা প্রকৃতির মানুষ। তিনি কখনো কোনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করতেন না। তীর্থরাজের বয়স যখন একুশ বছর, এক রাশ পূর্ণিমার রাতে তিনি নিখোঁজ হন। তারপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। শোনা যায় অপূর্বনারায়ন নাকি কোন মনমালিন্যের কারণে নিজের জ্যেষ্ঠ সন্তান তীর্থরাজ কে খুন করে তার দেহ লোপাট করে দেন। একই রাতে তীর্থরাজের এক সঙ্গিনীকেও খুন করে দুজনের দেহ একই সাথে কোথাও মাটির নিচে পুঁতে লোপাট করে দেয়া হয় বলে কথিত আছে। ... চলুন এবার আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি। এরপর আর দেরী করা ঠিক হবে না। নন্দী বাবু আপনাকে না পেয়ে বিচলিত হবেন।" "কিন্তু আমার তো আর যেতে মন চাইছে না। আপনার মুখ থেকে সব শুনতে ইচ্ছা করছে। শেষ পর্যন্ত বলুন । আমি শুনবো। " আমি আকুল হয়ে বললাম। তার মুখচ্ছবি বিষাদময় হয়ে উঠলো, ম্লান হেসে বললেন, "সে হয় না। আপনাকে কথা দিয়েছিলাম নন্দীবাবুর পূজা শেষ হবার আগেই আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসবো। চলুন। কাল আবার দেখা হবে।" " কিন্তু আমি যে কাল চলে যাব। কাল যে আমায় যেতেই হবে" " কালই চলে যাবেন? আর একটা দিন অন্তত... " বলতে বলতে তার কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে এল। শুভ্র জোৎস্নার আলোকে তার মায়াময় দুচোখের কোনে অশ্রুবিন্দু লক্ষ্য করে আমিও এক অব্যক্ত বিচ্ছেদ যন্ত্রনা অনুভব করলাম। একই পথে দুর্গা মন্দিরের পার করে আম বাগানের ভিতর দিয়ে উত্তর দিকের দরজার কাছে এসে উপস্থিত হলাম। বললাম," আপনার নামটা জানা হলো না যে।" ম্নান হেসে বললেন, " একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। আপনি জন্মান্তরে বিশ্বাস করেন।" "হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন করছেন", অবাক হয়ে বললাম। "বলুন না। জানতে ইচ্ছা করছে।" "করি" "শিবের নাম অনুসারেই আপনার নাম শিবনাথ আবার শিবেরই আর এক নাম তীর্থরাজ । জানতাম আপনার সাথে আমার দেখা হবেই। শান্তি পেলাম। গল্পের বাকি অংশটা আপনাকে শোনাতেই হবে। এখানে আর আপনার সাথে কখনো দেখা হবে না তবে পরজন্মে যদি আপনাকে খুঁজে পায় বাকি গল্পটা তখন শোনাবো। আমার নাম জানতে চেয়েছিলেন। মৃগনয়না। চলি " তার ফিরে যাওয়ার পথ চেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। কেন জানিনা, অভ্যস্ত যন্ত্রণায় আমি ছটফট করতে লাগলাম, দুই চোখ জলে ভরে গেল। রাত্রে খাবার টেবিলে দয়াল'দা যে গল্প শুরু করলেন তার সারমর্ম এই, কৃষ্ণ মাটির ষোলআনা জমিদারির মধ্যে বারোআনা ছিল রায়চৌধুরীদের । চার আনা ছিল মজুমদারদের। দুই পরিবারের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল, একযোগে রাজকীয় ব্যবস্থাপনায় যাবতীয় পূজা-পার্বণ আচার-আচরণ পালন করত। এরই মধ্যে জমিদার অপূর্বনারায়ন রায়চৌধুরী জ্যেষ্ঠ সন্তানের সাথে জমিদার অনাদিনাথ মজুমদারের একমাত্র কন্যার প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অপূর্বনারায়ন এই সম্পর্ককে কোনভাবেই মানতে চাননি। চার-আনার জমিদারের কন্যাকে পুত্রবধূ রূপে বাড়িতে তোলা আত্মমর্যাদাহীন বলে গণ্য করতেন। ফলত দুই পরিবারের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। অন্যদিকে অপূর্ব নারায়ণের জ্যেষ্ঠ পুত্র তীর্থরাজ তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তিনি তার পিতার অহংকার ও আত্ম দম্ভকে অগ্রাহ্য করে বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন। এমতাবস্থায় এক রাশ পূর্ণিমার রাতে, যখন তীর্থরাজ ও তার প্রণয়নী এক নিভৃত স্থানে প্রেমালাপ করছিলেন, জমিদার অপূর্বনারায়ণের নির্দেশমতো তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত লেঠেল দিগম্বর সরদার দুজনকে একই জায়গায় গলার নলি কেটে খুন করে মাটির নিচে পুঁতে দেয়। রাতারাতি ওই জায়গার উপরেই অপূর্ব নারায়ন বিশাল আকৃতির দুর্গা মন্দির নির্মান শুরু করেন। মজুমদার বাড়ির একমাত্র কন্যার চাকর হরি, এই দেহ লোপাটের ব্যাপারটি কোন প্রকারে দেখে ফেলায় তাকেও খুন করে তার দেহ লোপাট করে দেওয়া হয়। এরপর জমিদার অনাদিনাথ সস্ত্রীক পাকাপাকিভাবে কাশি চলে যান। পরবর্তীকালে পুত্রশোকে কাতর হয়ে অপূর্ব নারায়ন সপরিবারে কৃষ্ণমাটি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। একমাত্র নায়েব মশাই, জমিদার অপূর্বনারায়ন চৌধুরীর এই পরিকল্পনার কথা সব জানতেন। তিনি এই ঘটনার কথা কেবলমাত্র তার পত্নী ছাড়া আর কাহাকেও জানান নাই। পারিবারিক সূত্রে দয়াল'দা এই ঘটনা তার ঠাকুমার কাছে থেকে শুনেছেন। উপসংহারে দয়াল'দা বললেন, "এই ঘটনা আজকের দিনে ইতিহাস ছাড়া আর কিছুই নয় আর সেই ইতিহাসের একমাত্র সাক্ষী ওই দুর্গা মন্দির - সকালে তোমাকে সে কথাই বলেছিলাম।" "আর জমিদার অনাদিভূষণের একমাত্র কন্যার নামটা তো বললেন না" - জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম। দয়াল'দা কিছুক্ষণ আনমনে একদৃষ্টে দেওয়ালে ঝোলানো একটি তেলরং করা বলিষ্ঠ সুপুরুষ অল্পবয়স্ক মানুষের ছবির দিকে চেয়ে রইলেন এবং দৃষ্টি পরিবর্তন না করেই বললেন," ইনিই সেই তীর্থরাজ রায়চৌধুরী । আর সেই পরমাসুন্দরী কন্যার নাম মৃগনয়না।" বাকরুদ্ধ হলাম। সুবৃহৎ ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ছবির সাথে নিজেকে বারবার মিলিয়ে দেখলাম - অনেক সাদৃশ্য আছে। ভোরবেলা ট্রেন ধরার জন্য হাঁটা পথে রওনা হলাম। পুকুর পাড়ে এসে স্নান ঘাটের কাছে থমকে দাঁড়ালাম। চারিদিকে তাকে খুঁজলাম। হাহুতাশ। কোথাও কেউ নেই। চারি পাশ হতে একাকিত্বের ঢেউ এসে আমার অন্তঃকরণ তছনছ করতে শুরু করলো। অশ্রুময় দুচোখ ঝাপসা হয়ে এল। টিকিট কেটে ট্রেনে উঠে বসলাম। পরজন্মে পৌঁছতেই হবে। সতীনাথ চট্টোরাজ। বাঁকুড়া। ২০ ভাদ্র ১৪২৬

Read More of Satinath

Prose meditation
Devotion & Vedanta
30 September 2024Literary text

নেশা !

সতীনাথ চট্টোরাজ। (১) কার্তিক মাসের কৃষ্ণা একাদশী। ট্রেন থেকে নামলাম। প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। তার সাথে মুহুর্মুহু গগনভেদী বজ্রপাত। নির্জন প্ল্যাটফর্ম। ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাত্রি দুটো। বিদ্যুতের আলোয় বেশ কিছুটা দূরে টিকিট ঘরটি ছাড়া মাথাগোঁজার মত আ...

Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবাঁকুড়াঢাকা
Read
Prose meditation
Devotion & Vedanta
10 August 2022Literary text

নেশা ! সতীনাথ চট্টোরাজ। (১) কার্তিক মাসের কৃষ্ণা একাদশী। ট্রেন থেকে নামলাম। প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। তার সাথে মুহুর্মুহু গগনভেদী বজ্রপাত...

নেশা ! সতীনাথ চট্টোরাজ। (১) কার্তিক মাসের কৃষ্ণা একাদশী। ট্রেন থেকে নামলাম। প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। তার সাথে মুহুর্মুহু গগনভেদী বজ্রপাত। নির্জন প্ল্যাটফর্ম। ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাত্রি দুটো। বিদ্যুতের আলোয় বেশ কিছুটা দূরে টিকিট ঘরটি ছাড়া মাথাগোঁজ...

Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবাঁকুড়াঢাকা
Read
Reel / video
River, Rain & Tide
12 May 2019Self-authored post

চিরন্তন

চিরন্তন অবসন্ন অবসরে, হেমন্তের পরন্ত বিকেলে যুবকেরা একদল সারা মাঠ জুড়ে, চিৎকার চেঁচামেচি ফুটবল খেলে। সন্ধ্যা নিবিড় হয়, ঝাপসা অন্ধকার, খেলা শেষে শুরু হয় তার অন্বেষণ । মাঠের পশ্চিমে এক ঝাউয়ের তলায় তখনো আবছা আলোয়, তারে দেখা যায়। রিয়া,...

Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবনগাঁকলকাতা
Read
Prose meditation
Devotion & Vedanta
15 May 2024Literary text

"আশা - নিরাশা"

অভাব বোধ আছে । থাকুক। তবে তা না পাওয়ার জন্য আর কোন ক্ষোভ নেই, রাগ নেই, অভিমান নেই, অনুযোগ নেই । এ বিষয় এখন বোধগম্য হয়েছে যে, ঈশ্বর আমাদের মুক্তি দিতে চাননি, তাই আমাদের মানসিক পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতেই চেয়েছেন। সেই জন্যই তিনি প্রত্য...

Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsসুন্দরবন
Read
Photo caption
Duty & Public Service
5 April 2020Self-authored post

শিক্ষক

শিক্ষক — খবরটি শুনিয়া - নিতাই ডোম ও দুইজন উর্দিধারী সিপাই লইয়া , কৈখালী ঘাট হইতে নৌকায় উঠিয়া মাতলা নদী ধরিয়া কুলতলি অভিমুখে যাত্রা শুরু করিলাম। কার্তিক মাস। দিবস কাল গত হইতেছে। সূর্য পশ্চিমে হেলিয়া পড়িয়াছে। পশ্চিমাকাশ লালিমামন্ডিত হ...

Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবনগাঁকুলতলি
Read
Photo caption
River, Rain & Tide
25 August 2019Self-authored post

অপেক্ষা

অপেক্ষা একদিন সব আলো নিভে যাবে, সব পথ শেষ হবে কোন এক জীবন কিনারায়। নিশ্চুপ কত কথা অকথিত যাবে রয়ে চোখের ভাষায়। ঢেউয়ের তরঙ্গ গুলি নিশানা হারাবে, তৃষ্ণার্ত মরু প্রেম শুষে নেবে সব নদী জল, ফুটিফাটা এ পৃথিবী, ধূধূ মরুতল। তবুও, তৃষ্ণার্ত চেতনা...

Spirituality, Devotion & VedantaNature, River & Seasonsবাঁকুড়া
Read